দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফুটবল ইতিহাসে বিতর্কিত গোলের অভাব নেই। তবে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের মতো এত আলোচিত, বিতর্কিত এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারেনি আর কোনো গোল। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা সেই গোলটি আজও ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। তাই নতুন করে সামনে এসেছে সেই স্মৃতি।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমার্ধ গোলশূন্য ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে হোর্হে ভালদানোর উদ্দেশে পাস দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। তবে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্টিভ হজের ভুল ক্লিয়ারেন্সে বল উঁচু হয়ে চলে যায় নিজেদের বক্সে।
সেই বল দখলে নিতে গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে লাফ দেন ম্যারাডোনা। উচ্চতায় পিছিয়ে থাকায় বাঁ হাত দিয়ে বল স্পর্শ করে জালে পাঠান তিনি। রেফারি বা সহকারী রেফারি কেউই হ্যান্ডবলটি দেখতে না পাওয়ায় গোলের বাঁশি বাজান। ইংলিশ ফুটবলারদের তীব্র প্রতিবাদও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেনি।
গোলটি উদযাপন করার সময়ও ম্যারাডোনা কয়েক মুহূর্ত রেফারির দিকে তাকিয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন, গোলটি বৈধ ধরা হয়েছে কি না।
এর মাত্র চার মিনিট পরই ম্যারাডোনা করেন আরেকটি অবিস্মরণীয় গোল। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একাই ইংল্যান্ডের একাধিক ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে জালে বল পাঠান তিনি। সেটিই পরে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
গ্যারি লিনেকার শেষ দিকে একটি গোল শোধ করলেও ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। পরে বেলজিয়াম ও পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে তারা।
সে সময় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) ছিল না। ম্যাচের প্রধান রেফারি আলী বিন নাসের এবং সহকারী রেফারি বোগদান দোচেভ—দুজনেরই চোখ এড়িয়ে যায় হ্যান্ডবলটি।
ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর ২০২০ সালে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলী বিন নাসের বলেন, তিনি ঘটনাটি স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি। তাই সহকারী রেফারির দিকে তাকিয়েছিলেন। সহকারী রেফারি কোনো আপত্তি না জানিয়ে মাঝমাঠের দিকে হাঁটতে শুরু করলে তিনি গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
অন্যদিকে ২০১৭ সালে মৃত্যুর আগে বোগদান দোচেভ বলেছিলেন, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কিছু একটা অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু সে সময় ফিফার নিয়ম অনুযায়ী সহকারী রেফারির স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল না।
২০১৫ সালে ম্যারাডোনা আলী বিন নাসেরকে নিজের স্বাক্ষর করা একটি আর্জেন্টিনার জার্সি উপহার দেন। সেখানে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, “আলীর জন্য, আমার চিরকালের বন্ধু।”
আজও ‘হ্যান্ড অব গড’ শুধু একটি গোল নয়, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি। ৪০ বছর পর আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই সামনে আসতেই সেই ঘটনার স্মৃতি আবারও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
এমএস/